আমারা বাংলা ভাষা শুদ্ধভাবে লিখতে ও বলতে চাই

Sunday, March 3, 2013

ভাষা আন্দোলন


আমজাদ এবং ভ্যালেরিয়া ফেসবুকের বন্ধু। তারা একে অপরকে ডিজিটাল বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়। নানান বিষয়ে তাদের কথা চলে। কথা না আড্ডা, ফেসবুক আড্ডা। ফেব্রুয়ারী মাস , ভ্যালেরিয়া আমজাদ এর কাছে একটা ব্যাপার খুব আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল। তার কথা, " ২১শে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়। বিশ্ব বাসী এককভাবে পালন করে, কিন্তু যে দেশ থেকে এর উৎপত্তি, অর্থাৎ তোমাদের বাংলাদেশে তোমরা কিভাবে দিন টাকে উদযাপন কর??" আমজাদ একটু চিন্তা করল, তারপর বলা শুরু করল-
আমাদের দেশে এই দিনটি প্রতি বছর জাতীয় "শোক দিবস " হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে । বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারী রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপ্রতি এবং পরে একাধিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিসদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঘ নিবেদন করেন । এ সময় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি' গানের করুণ সুর বাজতে থাকে ।
এই দিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে ।
একুশে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে প্রভাত ফেরিতে অংশ নেয় লাখো মানুষ । সবাই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হাতে ফুল নিয়ে ভিড় জমায় শহীদমিনারে । বুটিক হাউসগুলো এই দিনের কথা মাথায় রেখে সাদা কালো রঙের বাহারি সব ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসে।
কয়েকটি বুটিক হউসের সাথে কথা বলে জানা যায় এই দিনে বিশেষ করে সাদা কালো রঙের শাড়ি, ফতুয়া, পাঞ্জাবী অনেক বেশি বিক্রি হয় ।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর একুশে ফেব্রুয়ারী সরকারী ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয় ।কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এই দিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয় নি ।
ভ্যালেরিয়া বলল "তোমরা বেশ আনন্দ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে দিন টি পালন কর, পালন করাই উচিত, ভাষা শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত তোমদের রাষ্ট্রভাষা, ভাষার জন্য কোন জাতি রক্ত দিতে পারে এমন ইতিহাস পৃথিবীর আর কথাও আমি খুঁজে পাই নি। যারা ভাষার জন্য রক্ত দিতে পারে সে জাতি আসলেই মহান। পৃথিবীর সকল দেশে এই দিন পালিত হয়, এবং ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন স্বরূপ এই দিনে পৃথিবীর সকল দেশে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা উচিত "
ওমর ফারুক

No comments:

Post a Comment